বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এবং সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে আকস্মিক পাম্প পরিদর্শনে নেমেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনকালে তিনি গ্রাহক এবং পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। মন্ত্রী পাম্প মালিকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে জানান, একবারে বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রি না করে নির্দিষ্ট সীমা বা ‘রেশনিং’ মেনে চলতে হবে, যাতে পাম্পগুলো দীর্ঘ সময় সচল থাকে এবং সবাই প্রয়োজনীয় তেল পায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই সাশ্রয়ী না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিদর্শনকালে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রী পাম্প কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষকে পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি উদাহরণের মাধ্যমে বলেন, ঘরে সীমিত খাবার থাকলে যেমন তা একদিনে শেষ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, জ্বালানির ক্ষেত্রেও আমাদের একই নীতি অবলম্বন করতে হবে। গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তেল মজুত আছে, তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে বা পাম্পে ভিড় করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। তবে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই মুহূর্তে পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে বড় সমাধান। রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ সচল রাখাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে খোদ জ্বালানি মন্ত্রীর এমন সরাসরি তদারকিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার আশা করছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনগণের সহযোগিতায় এই সাময়িক বৈশ্বিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।



















