রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই বিষয়ে সরকারের প্রাথমিক অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে এক প্রকার ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা বিদেশ সফর সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হতো না। এমনকি তাঁকে সরিয়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে স্থলাভিষিক্ত করার অসাংবিধানিক চক্রান্তের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এই সংকটে বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন পাওয়ায় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য এবং সেখানে উল্লেখিত স্পর্শকাতর প্রসঙ্গগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অসহযোগিতা সংক্রান্ত দাবিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে সরকারের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দেশে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং সরকার কারও কথা বলা বা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
রাষ্ট্রপতির এই খোলামেলা বক্তব্য নতুন সরকারের শুরুতেই আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এই বিতর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সচিবালয়ের এই বৈঠক এবং মন্ত্রীদের মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিষয়টি নিয়ে সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে গভীর কাটাছেঁড়া করছে।



















