বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি কলাবাগান মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীকে নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ‘নকল সিলের’ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা-১০ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মা-বোনদের বিভ্রান্ত করতে ‘বায়বীয়’ বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিগত ১৬ বছর যারা আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা আবারও ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। আপনারা পাহারাদার হিসেবে সজাগ থাকবেন যাতে কেউ আপনাদের রায়কে ছিনতাই করতে না পারে।”
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ‘দেশ গঠনের নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, দেশে একমাত্র বিএনপির কাছেই নারী ও তরুণদের উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে। এ ছাড়া প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে গৃহিণীদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে বড় বড় প্রজেক্টের নামে কেবল মেগা দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের সেবার মান বাড়েনি। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ নেই, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে এবং গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করতে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। জনসভায় শেখ রবিউল আলম রবিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কলাবাগান এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।



















