আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামীকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামছেন। তাঁদের সাথে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে যুক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকবে। ইতোমধ্যে সব জেলায় ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস ও সদস্য সংখ্যা: নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- আনসার ও ভিডিপি: ৫,৭৬,৪৮৩ জন
- পুলিশ: ১,৮৭,৬০৩ জন
- সেনাবাহিনী: ১,০৩,০০০ জন
- বিজিবি: ৩৭,৪৫৩ জন
- র্যাব: ৯,৩৪৯ জন
- নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী: ৮,৭৩০ জন
- কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য: প্রায় ৫০,০০০ জন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে। এ ছাড়াও র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন পর্যন্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সাম্প্রতিক আন্দোলন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার জানান, ইসি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। তবে নির্বাচনের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি আন্দোলনকারীদের আপাতত কর্মসূচি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। আগামীকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ মোতায়েন শুরু হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে।



















