আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইসি সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে স্বচ্ছ এবং নিয়মমাফিক।
আচরণ বিধিমালার মূল নির্দেশনাসমূহ:
- তথ্য দাখিল (বিধি ১৬): কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব ইত্যাদি) ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে চাইলে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রচারণা শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
- ব্যয়সীমা ও হিসাব (বিধি ২২): সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, পোস্ট বুস্টিং বা স্পন্সরশিপের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব নির্বাচনের পর কমিশনকে জমা দিতে হবে।
- এআই (AI) ব্যবহারে সতর্কতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কোনো প্রার্থীর ছবি বা কণ্ঠ বিকৃত করা (ডিপফেক), মানহানিকর কন্টেন্ট তৈরি বা গুজব ছড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- পোস্টার নিষিদ্ধের প্রভাব: যেহেতু এবার সশরীরে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচারণায় বেশি ঝুঁকেছেন। ইসি এই সুযোগে অপপ্রচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
ইসি সচিবালয় ইতিমধ্যে সকল রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা তাদের এলাকার প্রার্থী ও দলগুলোর ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে দ্রুত কেন্দ্রে পাঠান। আইন অমান্য করলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।



















