বুধবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

সংকটে দলের শেষ আশ্রয় তারেক রহমান

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫ ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত নাম তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরছেন—যা কেবল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত জাতির জন্য নতুন আশার সূচনা।

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতনের পর দেশ একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন দ্রুতই অস্থিরতা, নেতৃত্বশূন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ঢাকা পড়ে। মব ভায়োলেন্স, উগ্রবাদ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের অভিমত—দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফেরাতে একজন অভিজ্ঞ, গণভিত্তিসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য, যার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান।

সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ছায়ানট ও উদীচীতে ভাঙচুর এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নূরুল কবীরের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং মুক্ত চিন্তা, সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ‘মব কালচার’ ও উগ্রবাদের বিপজ্জনক বিস্তার—যা রুখতে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া বিকল্প নেই।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড এবং এর পরপরই সৃষ্ট সহিংসতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রাক্কালে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে তারেক রহমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের নেতাকর্মীদের শান্তি ও সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।

দেশের বাইরে থেকেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কিছু প্রভাবশালী ইউটিউবারের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ ও মব ভায়োলেন্সে প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই ‘সাইবার সন্ত্রাস’ মোকাবিলায় তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান ধীরে ধীরে জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হচ্ছেন। ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষ সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতি এবং তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রকাশ—তারই প্রমাণ। যারা একসময় তার কঠোর সমালোচক ছিলেন, তারাও আজ নেতৃত্বের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারেক রহমানের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছেন।

অর্থনীতিও আজ চরম সংকটে। ব্যাংকিং খাতের লুটপাট, ডলার সংকট ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করেছে। ব্যবসায়ী সমাজ একটি নির্বাচিত ও রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ সরকারের অভাব অনুভব করছে। তারেক রহমানের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব—বাজার অর্থনীতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির রূপরেখা—ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের মধ্যেও তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর তার জোর—তাকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছে।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে দলীয় ঐক্য ধরে রেখে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে কেবল উত্তরাধিকারসূত্রে নয়, বরং যোগ্যতার মাধ্যমেই নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও তার প্রত্যাবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতিতে অবিচল থেকে তিনি আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল অবস্থানের কথা বারবার তুলে ধরেছেন।

আজ যখন বাংলাদেশ এক অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে, তখন কোটি মানুষের বিশ্বাস—তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশে স্থিতিশীলতা ফিরাবে, মব কালচার ও উগ্রবাদ রুখবে এবং গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করবে। ২৫ ডিসেম্বর তাই কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়; অনেকের কাছে এটি বাংলাদেশের অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার প্রতীক।

সর্বশেষ - অপরাধ