দৃষ্টিদূষণ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ; ডিএসসিসি’র সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চলছে ব্যাপক বিলবোর্ড-ফেস্টুন ব্যবহার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল যেকোনো সময় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও, রাজধানী ঢাকায় দেশের প্রধান প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং পাড়ামহল্লা এখন নির্বাচনি পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। ঢাকা যেন বর্তমানে ‘পোস্টারের পুঞ্জি’তে পরিণত হয়েছে, যা শহরজুড়ে তীব্র দৃষ্টিদূষণ সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। সড়ক মোড়, ফুটপাত, দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, ফ্লাইওভার এবং মেট্রোরেলের পিলার—কোনো কিছুই এই প্রচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
ঢাকার সর্বত্র একই চিত্র:
ঢাকা-৮ (শাহজাহানপুর, মতিঝিল, পল্টন, রমনা ও শাহবাগ) আসনে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পোস্টার, যার নিচে লেখা ‘প্রচারে ঢাকা-৮ আসনের সর্বস্তরের জনগণ’। একই আসনে জামায়াতের ড. মো. হেলাল উদ্দিন এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাইফুল হকের পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডও চোখে পড়ার মতো।
শুধু ঢাকা-৮ আসনই নয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান, মিরপুর, উত্তরা, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ, ওয়ারীসহ প্রায় সব এলাকায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ডিজিটাল প্রিন্টের বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে চারপাশ ভরে গেছে। এমনকি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের গায়েও বিভিন্ন দল ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানার দেখা গেছে।
ঢাকা-৪ (শ্যামপুর ও কদমতলী) আসনে বিএনপির তানভীর আহমেদ রবিন ও জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া) আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন ও জামায়াতের ড. আবদুল মান্নানসহ অন্যান্য প্রার্থীর প্রচারসামগ্রীও সর্বত্র বিরাজমান।
ডিএসসিসি’র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ:
আগাম নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ২ ডিসেম্বর জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএসসিসি জানায়, অনুমতি ছাড়া ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার স্থাপন করা হচ্ছে, যা ‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’-এর পরিপন্থি। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে এসব প্রচারসামগ্রী স্ব-উদ্যোগে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে সিটি করপোরেশন সতর্ক করেছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















