আসামে কংগ্রেস কর্মীর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ গান শোনার পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানায় পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্বভারতীর বাম ছাত্রসংগঠন এসএফআই এর সদস্যরা রবীন্দ্রনাথের গান গেয়ে আসাম সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠায়। তাতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা যেন শুধুমাত্র পড়াশোনায় মন দেয় এবং কোনো আন্দোলনে যুক্ত না হয়।
এ নিয়ে এসএফআই অভিযোগ করেছে, “রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে বলা হচ্ছে, তাদের সন্তানরা ‘অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে’ লিপ্ত।”
সংগঠনটির নেতা প্রত্যুষ মুখোপাধ্যায় বলেন, “রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার জন্য যদি হুমকি দেওয়া হয়, তবে এটি মুক্তচিন্তার ওপর সরাসরি আঘাত।”
এছাড়া বীরভূম জেলা এসএফআই সম্পাদক সৌভিক দাস বক্সী প্রশ্ন তুলেছেন, “যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিশ্বভারতীর আচার্য, সেখানে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত?”
রবীন্দ্রনাথ পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরাও কি তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহী?”
এসএফআই জানিয়েছে, এ ঘটনার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং উপাচার্যের কাছে লিখিত জবাব দাবি জানানো হবে।



















