ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি এবং হামাস যতক্ষণ পর্যন্ত মৃত সব ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ/দেহাবশেষ ফেরত দেবে না, ততদিন পর্যন্ত লড়াই চলবে। তিনি এ কথাগুলো বলেছেন জেরুজালেমে আয়োজিত আইডিএফের ইউনিট কমান্ডারদের সম্মেলনে।
সেনাপ্রধান জামির বলেন, আইডিএফ একটি “পবিত্র মিশনে” নিয়োজিত এবং ওই মিশনের প্রধান দুই লক্ষ্য হচ্ছে—গাজায় নিহত সব ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা এবং হামাসের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইডিএফ অতীতকে কাঁধে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকায় এবং তাদের নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করবে।
পটভূমি: ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজার ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে দুই বছরেরও বেশি সময়ে ফিলিস্তিনে ব্যাপক হতাহত ঘটেছে; আন্তর্জাতিক গণনা অনুযায়ী নিহত ও আহতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি—প্রধানত নারী ও শিশুদের মধ্যে।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ২০ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রস্তাব করলে ইসরায়েল ও হামাস সে পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে সম্মত হয়ে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। ওই পরিকল্পনার প্রথম স্তরে জীবিত সব ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির পাশাপাশি মৃত জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরের কথা ছিল।
হামাস দাবি করে, ২৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি মারা গেছেন এবং তাদের দেহ কোথায় আছে তা বর্তমান তাদের হাইকমান্ডও পুরোপুরি জানে না—অনেকে আইডিএফের অভিযানকালে নিহত হয়েছেন বলে তারা বলছে। আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী হামাস এখন পর্যন্ত ওই ২৮ নিহত জিম্মির মধ্যে ১৫ জনের মরদেহ/দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছে; ১৩ জনের দেহাবশেষ এখনও ফেরত পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে, পূর্বে বাকি জীবিত বর্গের মধ্যে থাকা ২০ জন জিম্মিকেও হামাস মুক্তি দিয়েছে।
ইয়া’য়াল জামিরের অঙ্গীকার ও কড়া অবস্থান গাজা সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক-রাজনৈতিক আলোচনায় তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মঞ্চে থাকা কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতার সঙ্গে মিল রেখে যে কোনো অগ্রগতির জন্য মরদেহ হস্তান্তরসহ হোস্টেজ ইস্যু আজও অন্যতম কেন্দ্রীয় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।



















