২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ সোমবার (২ জুন, ২০২৫) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর প্রস্তাব করায় তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত, শুল্ক-কর বৃদ্ধির প্রস্তাবগুলো বাজেট ঘোষণার পরপরই কার্যকর হয় এবং এর প্রভাব দ্রুত বাজারে দেখা যায়।
দাম বাড়ার সম্ভাব্য পণ্যসমূহ:
- মুঠোফোন: দেশে মুঠোফোন উৎপাদন ও সংযোজনে যে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অব্যাহতি সুবিধা ছিল, তা আংশিকভাবে কমানো হয়েছে এবং এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, মুঠোফোনের দাম বাড়তে পারে।
- ইলেকট্রনিক গৃহস্থালি সামগ্রী: ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার, আয়রন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার ইত্যাদি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা কমানো হয়েছে। ফলে এসব গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
- প্লাস্টিকের তৈজসপত্র: থালাবাসনসহ প্লাস্টিকের তৈজসপত্র এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর ওপর ভ্যাটের হার দ্বিগুণ করে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে পরিবেশবান্ধব তৈজসপত্রে ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে।
- এলপিজি সিলিন্ডার: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা কিছুটা কমানো হয়েছে, যার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে।
- বিদেশি চকলেট: কিছু আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি চকলেট অন্যতম। ইউনিটপ্রতি ৪ ডলারের বদলে এখন ১০ ডলার ধরে শুল্কায়ন হবে, যা আমদানি খরচ বাড়িয়ে দেবে এবং এর ফলে দাম বাড়তে পারে।
- লিপস্টিক ও প্রসাধনী: ঠোঁট, চোখ ও মুখমণ্ডলে ব্যবহৃত প্রসাধন সামগ্রী আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব পণ্য আমদানি থেকে বাড়তি কর আদায় হবে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে।
- ব্লেড: দেশে ব্লেড উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট আড়াই শতাংশ বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে দাঁড়ি কাটার খরচ বাড়বে, অর্থাৎ ব্লেডের দাম বাড়তে পারে।
এই শুল্ক-কর বৃদ্ধি দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



















