বিহারের রাঘোপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে—জীবিত মানুষকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এই তালিকাভুক্ত সাতজন ‘মৃত’ ভোটারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও তাঁদের সঙ্গে চা পান করেন।
রাহুল গান্ধী এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আমার জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু ‘মৃত’ মানুষের সঙ্গে চা খাওয়া এই প্রথম। এই অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য ধন্যবাদ নির্বাচন কমিশনকে!” চার মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ভোটাররা নিজেদের জীবিত থাকার প্রমাণ দিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্মূল্যায়নের খসড়া প্রকাশের পর জানতে পারেন, তাঁদের নাম বাদ পড়েছে।
এই সাতজন হলেন—রামিকবাল রায়, হরেন্দ্র রায়, লালমুনি দেবী, বাচিয়া দেবী, লালওয়াতি দেবী, পুনম কুমারী ও মুন্না কুমার। তাঁদের দাবি, রি-ভেরিফিকেশনের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তালিকায় নাম ফেরানো হয়নি। কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।
রাহুল গান্ধী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ভোট চুরি হতে দেব না।” আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচন ও এ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের মামলাকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোট এই স্লোগানকে হাতিয়ার করেছে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম ও ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বড় আইনি নজির তৈরি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাহুলের কাছে নথি ও শপথপত্র চেয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কটাক্ষ করে বলেছেন, “নির্বাচনের আগেই হারের অজুহাত খুঁজছেন, বারবার হেরে যাচ্ছেন, এবারও তাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”



















