২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান শুরুর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। যদিও এখনো নির্বাচন কমিশনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছায়নি, তবুও নির্ধারিত সময় ধরে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, “আমরা চিঠির অপেক্ষায় আছি। আশা করছি দ্রুতই পেয়ে যাব। তবে না পেলেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক আগেই। নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার সবই আমরা নিচ্ছি।”
সিইসি জানান, ভোটার তালিকার হালনাগাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে, ৩১ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে তফসিল ঘোষণার আগেই সম্পূরক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
সংলাপ ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
সিইসি জানান, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক মাসব্যাপী সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই এই নির্বাচন আয়নার মতো স্বচ্ছ হোক। কেউ যেন বলতে না পারে যে কিছু গোপন রাখা হয়েছে।”
ভোটারদের অংশগ্রহণ ও এআই চ্যালেঞ্জ
ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিইসি। তিনি বলেন, “মানুষ ভোটের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
প্রযুক্তিনির্ভর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অগ্রগতি
তিনি আরও জানান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। পোস্টাল ব্যালটের আওতায় এবার রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন চায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি। তিনি বলেন, “কে কোন দলে আছেন সেটা বড় বিষয় নয়। খেলোয়াড়দের ফাউল করলে রেফারি একা কিছু করতে পারবে না। তাই সব দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
সিইসি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যত বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নেবে, ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে, ততই নির্বাচন সফল হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের কাজ দেখেই সবার আস্থা তৈরি হবে।”



















