বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজযাত্রীদের আগমন শুরু হওয়ায় সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মক্কার পবিত্র স্থানগুলোর করিডোর, গলিপথ ও প্রাঙ্গণে ঘুমানো বা শোয়াকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে। রোববার (১৮ মে, ২০২৫) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করলে চলাচল সহজ হয় এবং হজের ব্যস্ততম সময়ে বিপদের সম্ভাবনা কমে।
মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, জনাকীর্ণ এলাকায় শুয়ে পড়লে তা জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোর দ্রুত সাড়া দেওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এ কারণে হজযাত্রীদের কেবল নির্ধারিত তাঁবু বা হোটেল আবাসনে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, এই আচরণ ভিড় বাড়িয়ে জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।
এ বছর ৪ঠা জুন থেকে ৯ই জুনের মধ্যে হজ পালিত হবে (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হজে ২৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি আসতে পারেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একটি নতুন রেকর্ড।
এ বছরের হজের সময় তীব্র গরম থাকতে পারে। মুসল্লিদের সহায়তার জন্য সৌদি সরকার ছয়টি ভাষায় একটি ইলেকট্রনিক হজ গাইড চালু করেছে—‘স্মার্ট বুক অব হজ রিচুয়ালস’। এটি আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, উর্দু, মালয়ালম এবং তুর্কি ভাষায় পাওয়া যাবে। এই গাইডটি মসজিদের ইলেকট্রনিক লাইব্রেরিতে এবং সৌদিয়ার বিমানে পাওয়া যাবে।
এদিকে, গত মাসে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম ফ্লাইটে ৪৪২ জন মুসল্লি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইসলামাবাদ থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ৩৩ দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে প্রায় ৮৯,০০০ সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী অংশ নেবেন। মোট ৩৪২টি ফ্লাইট নির্ধারিত হয়েছে, যার শেষ ফ্লাইট ৩১শে মে (২০২৫) রওনা দেবে। সরকারি স্কিম ছাড়াও আরও ২৩,৬২০ পাকিস্তানি মুসল্লি বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে হজ পালন করবেন। প্রায় ৫০,৫০০ পাকিস্তানি মুসল্লি ‘মক্কা রুট’ সুবিধা পাবেন, যার মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে বিমানবন্দরে আগেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


















