ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৫: ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নামসর্বস্ব ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠান’ ডিশন ট্রেডিংয়ের নামে ভুয়া তথ্য দিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কীভাবে আত্মসাৎ হলো ২৫ কোটি টাকা?
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, এই মামলাটি পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ফল। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান ডিশন ট্রেডিংয়ের মালিক সাজানো হয়। এরপর ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র দাখিল করে ইউসিবি থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করানো হয়।
ঋণের এই অর্থ পরে বিভিন্ন ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের (যেমন সাইফুজ্জামান চৌধুরীর কর্মচারীদের নামে সৃষ্ট আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং) ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার (মানিলন্ডারিং) করা হয়। এর মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদক অভিযোগ করেছে।
মামলার ধারা ও জড়িতদের তালিকা
দুদক সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ এনেছে।
এই মামলাটি দেশের আর্থিক খাতে দুর্নীতি এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে দুদকের চলমান কঠোর অবস্থানের একটি বড় দৃষ্টান্ত। এই মামলার ফলে সাবেক একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা কতটুকু প্রমাণিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।



















