রবিবার , ১৫ জুন ২০২৫ | ৬ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা অভিমুখে মানুষের ঢল: কর্মচঞ্চল হচ্ছে রাজধানী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১৫, ২০২৫ ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ঈদুল আজহার টানা দশ দিনের ছুটি শেষে গতকাল শনিবার ছিল শেষ দিন। আজ রবিবার থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো পুনরায় খুলছে। এর ফলে ছুটির শেষ দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার রাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। ট্রেনগুলো যখন ঢাকার রেলওয়ে স্টেশনে থামছিল, তখন দেখে মনে হচ্ছিল যেন জনসমুদ্র বয়ে আনছে।

প্রত্যেকেই পরিবারের মায়া, ঈদের আনন্দ আর গ্রামের স্মৃতি বুকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন। হাতে লাগেজ, চোখে ক্লান্তি থাকলেও সামনে এগিয়ে চলার তাড়া যেন সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। পরিবার ছেড়ে ফিরে আসার বেদনা সবার চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল, তবে জীবিকার তাগিদে আবার ছুটে চলা ছাড়া উপায় নেই। এই দৃশ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শহর আবার তার চেনা গতি, কর্মচাঞ্চল্য আর ব্যস্ততা ফিরে পাচ্ছে।

ট্রেনের চিত্র:

গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে থামে আন্তঃনগর ‘একতা এক্সপ্রেস’। ট্রেনটি শুক্রবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে দেশের সর্ব উত্তরের পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে এসেছিল। ট্রেনটি ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামার সময় দেখা যায়, ট্রেনের ইঞ্জিনের দুই পাশের রেলিং ধরেও মানুষ বসে আছে, এমনকি ট্রেনের ছাদেও যাত্রী ছিল।

এদিকে, শুক্রবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছিল যে, বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনটি থামলে প্রচুর বিনা টিকিটের মানুষ ট্রেনে উঠেছিল। অতিরিক্ত এসব মানুষের চাপে টিকিটধারী যাত্রীরা ঠিকভাবে ট্রেনে উঠতে পারেননি এবং দীর্ঘ সময় নিজ আসনে বসতে পারেননি। স্টেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে যেসব ট্রেন ঢাকায় এসেছে, প্রত্যেকটা ট্রেনেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিল। তারা জানিয়েছেন, গতকাল সারাদিন ঢাকায় আসা প্রত্যেকটা ট্রেনেই এমন ভিড় হতে পারে।

বাসের চিত্র:

রাজধানীর গাবতলীসহ বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ফেরতযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীরা জানিয়েছেন, পুরো সড়কে খুব বেশি না হলেও, যমুনা সেতুতে তাদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ফেরার পথে যানজট খুব বেশি না থাকলেও রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে যানবাহনের ধীরগতি ছিল। এসব রুটে ঢাকায় আসা যাত্রীরা বলেছেন, টিকিটের জন্য তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কর্মস্থলে ফিরতে আসা মানুষ দল বেঁধে বাস থেকে নামছেন। কিছু সময় পরপর বিভিন্ন জেলা থেকে বাস এসে পৌঁছাচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদেও। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে গণপরিবহন ঢাকায় প্রবেশ করছে এবং প্রতিটি বাসই যাত্রীতে পূর্ণ। ঢাকার প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী বা সায়েদাবাদে বাস থেকে যাত্রীরা নেমে লোকাল পরিবহন, রিকশা বা সিএনজিতে করে বাসায় ফিরছেন। এর ফলে রাজধানীর প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী থেকে কাজলায় যানজট দেখা গেছে। তবে একটু সামনে এগিয়ে সায়েদাবাদ রোডে যানবাহনের গতি ছিল তুলনামূলক ধীর। তবে ঢাকায় নামার পর যাত্রীরা সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন গণপরিবহন পেতে। বাস কাউন্টারে নামার পর তারা দেখছেন, রাজধানীতে চলাচল করা বাসের সংখ্যা খুবই কম, এবং যেসব বাস আসছে, সেগুলোও যাত্রীতে ঠাসা।

১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি:

গত ৭ জুন দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদের ছুটি উপলক্ষে গত ৪ জুন ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস। দেশের সব গণমাধ্যমেও সেদিন ছিল শেষ কর্মদিবস। ৫ জুন থেকে সংবাদকর্মীদের পাঁচ দিন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দশ দিনের ছুটি শুরু হয়। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব গণমাধ্যমের ঈদের ছুটি শেষ হয় ৯ জুন, আর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি শেষ হচ্ছে ১৪ জুন।

সর্বশেষ - অপরাধ