জিবুতির পূর্ব উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইওএম জানায়, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে জিবুতির পূর্ব উপকূলে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জিবুতির কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক জানান, সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা দিচ্ছেন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।
আইওএম আরও জানিয়েছে, নিহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা মূলত জিবুতির কর্তৃপক্ষের দাফন করা ব্যক্তিদের হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত। কয়েকজন অভিবাসী নিজেরাই মরদেহ দাফন করে থাকতে পারেন। কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর পরিচয় ও সংখ্যা যাচাই করার পর সেগুলো সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আইওএমের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগ ও নিরাপদ জীবনের আশায় আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বহু মানুষ জিবুতি থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ পথে তাঁদের বাব আল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিতে হয়। প্রণালিটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
তবে এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও অভিবাসীদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
আইওএম জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের আগমন নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি। গত বছর এই পথ ধরে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে অথবা তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন।
জিবুতির উপকূলে সর্বশেষ নৌকাডুবির ঘটনা আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: আলজাজিরা ও জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।


















