ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে তিনটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য এই কৌশলের কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অন্তত দুই দফা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আরও দুই সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে মধ্যপ্রাচ্য নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে এই কৌশল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা যৌথভাবে পরিকল্পনাটির খসড়া তৈরি করছেন। আলোচনায় থাকা কৌশলটির তিনটি প্রধান দিক হলো—
প্রথমত, ইরানের প্রভাব মোকাবিলা ও দেশটিকে প্রতিহত করতে মার্কিন মিত্রদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক জোট গঠন করা। এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান নিরাপত্তা গ্যারান্টর হিসেবে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।
তৃতীয়ত, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া আব্রাহাম চুক্তির পরিধি আরও বাড়ানো এবং সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি সম্পন্ন করা।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধ-পরবর্তী এই কৌশল বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নির্বাচনের ফলাফল যেমনই হোক না কেন, এমনকি রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও ট্রাম্প তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাপ অব্যাহত রাখবেন।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এর খসড়া চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসনের এই মধ্যপ্রাচ্য কৌশল এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত রূপ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: গালফ নিউজ ও অ্যাক্সিওস


















