চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আয়োজিত ‘জাগ্রত জুলাই: কালচারাল ফেস্ট’-এর চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি ও বাণীসংবলিত ফেস্টুন টাঙানোকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হল মাঠে এই দুদিনব্যাপী প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী স্থানে সাঈদীর ফেস্টুনের পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি ও উক্তি সম্বলিত ফেস্টুনও রাখা হয়, যা নিয়ে অপরাপর ছাত্রসংগঠনগুলো ইতিহাস বিকৃতি ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছে।
ঘটনাস্থলে ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং চবি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সাঈদীর ফেস্টুন প্রদর্শনের কড়া সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, চাকসুর মতো সর্বজনীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদান বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভাবধারাকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত সাংস্কৃতিক উৎসবে সাঈদীর ফেস্টুন রাখাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল ভাবধারার পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে শিবিরের সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব দাবি করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে এক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব এবং তার উক্তি রাখা শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। যদিও পরবর্তীতে তীব্র বিতর্কের মুখে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সাঈদীর ফেস্টুনটি সরিয়ে অন্য পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্পূর্ণ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য চাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


















