সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি ও দূরদর্শী পদক্ষেপ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিটি মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে একযোগে ব্যাপকভিত্তিক কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই). আজ শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) থেকে দেশের সবকটি উপজেলায় সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত উপায়ে এই বিশেষ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে. প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রতিটি উপজেলার একটি সুনির্দিষ্ট ‘ব্লক’ নির্বাচন করে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হবে এবং পরবর্তীতে এই প্রাথমিক অভিজ্ঞতার আলোকে পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য সকল ব্লকে এই কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে বলে অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে. সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত একটি জরুরি দাপ্তরিক অফিস আদেশের মাধ্যমে দেশের সকল অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে.
কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটি’-র দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকেই মূলত এই দেশব্যাপী সমন্বিত তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়. এই বিশাল কর্মযজ্ঞ মাঠ পর্যায়ে নিখুঁত ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৪ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বিশেষায়িত ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে. এই পাঁচ দিনব্যাপী ডিজিটাল প্রশিক্ষণ শেষে আজ ১৮ জুলাই থেকে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হচ্ছে. সরকারি আদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সব পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের এই কার্যক্রমকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করে সম্পূর্ণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে.
কৃষি খাতের নীতিনির্ধারক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, দেশব্যাপী কৃষকদের একটি অত্যন্ত নির্ভুল, আধুনিক ও সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার (Database) তৈরি হলে সরকারের প্রতিশ্রুত ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের পথ সম্পূর্ণ মসৃণ ও সহজ হবে. এই যুগান্তকারী কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে. এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারের দেওয়া সরাসরি কৃষি প্রণোদনা, সারের ভর্তুকি, নামমাত্র সুদে ঋণ সুবিধা, সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ এবং অন্যান্য জরুরি সরকারি সেবা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি প্রকৃত কিষাণ-কিষাণীর কাছে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের সার্বিক কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে.


















