মধ্যপ্রাচ্যে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও ড্রোন হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার ড্রোন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন দফায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, এবারের নিখুঁত হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি কেন্দ্র, লজিস্টিক অবকাঠামো, মাটির নিচে অবস্থিত গোপন বৃহৎ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক যুদ্ধের সক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশনায় ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের প্রধান বন্দরগুলোকে অবরুদ্ধ করতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর ‘নৌ অবরোধ’ কার্যকর করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সর্বোচ্চ যুদ্ধ সতর্কতায় মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন এই সর্বাত্মক হামলা ও নৌ অবরোধের মুখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরান ও তার সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ও আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, মার্কিন বিমান হামলার চরম ঝুঁকিতে থাকা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল ও ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ মার্কিন বোমাবর্ষণে ওই অঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামতের চেষ্টা চলছে। এদিকে সংঘাতের আঁচ লেগেছে পারস্য উপসাগরীয় মার্কিন মিত্র দেশ বাহরাইনেও; যেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে সরাসরি কুয়েত ও জর্ডানের মাটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরানের সামরিক কমান্ড। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান লজিস্টিক সেন্টার ‘ক্যাম্প উদাইরি’ এবং ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটির মূল সদর দপ্তর ও গোলাবারুদ ডিপো লক্ষ্য করে তাদের শক্তিশালী ড্রোনগুলো নিখুঁত আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে জর্ডানের মাটিতে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি ‘মুওয়াফফাক সালতি’ (আল আজরাক)-এর বিশাল মার্কিন জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও ফুয়েল ডাম্পেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান অত্যন্ত কড়া ভাষায় ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা সীমান্তের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এর চেয়েও অনেক বেশি কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তবে ইরানের এই ব্যাপক ড্রোন হামলার পর কুয়েত বা জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে মার্কিন পেন্টাগন বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা


















