চার বছর আগে এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে নিজ বাসা থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ চার বছর পর প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত ও বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে সম্পূর্ণ বেআইনি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই সাজানো ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত ক্যারিয়ারে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে—তার দায় কে নেবে, তা নিয়ে তিনি রাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রশ্ন রেখেছেন। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ ও বেদনার কথা প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেওয়া ওই সাবেক সেনা কর্মকর্তার সৎ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসী অবশেষে সত্যটা জানতে পেরেছে। খাইরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সরাসরি মৌখিক নির্দেশে পরীমনিকে অন্যায়ভাবে আটক ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
‘মিথ্যা মামলায় ২৮ দিন কারাবাস, হারিয়েছি সম্মান ও মানসিক শান্তি’
নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে চরম বেদনাদায়ক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে পরীমনি তার স্ট্যাটাসে লেখেন:
“আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই সাজানো ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মাদক মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। সেই অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে, তা একমাত্র আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়।”
পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি আজও প্রতিটা মুহূর্তে সেই ঘটনার মানসিক ভুক্তভোগী (Traumatized) হয়ে আছেন। যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল করে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে, তার এত বছরের অর্জিত সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের আইনি ও বিনোদন ইতিহাসের পাতায় এক নজিরবিহীন বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রের উদ্দেশে পরীমনির তীক্ষ্ণ প্রশ্নাবলি
ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রতিশোধের মানসিকতা এড়িয়ে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে পরীমনি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:
- ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন: “আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই অমূল্য দিনগুলো, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক শান্তি কি রাষ্ট্র আর কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে?”
- মিথ্যা প্রচারণার দায়: “মিডিয়া ও প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও নোংরা বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছিল, রাষ্ট্র কি আজ তার আনুষ্ঠানিক দায় নেবে?”
- ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: “আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতে চাই না। আমি শুধু চাই, স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ শিল্পী বা সাধারণ মানুষ যেন এমন রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের শিকার না হন।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তার জীবনের এই কঠিনতম সময়ে যারা পাশে ছিলেন—সেই পরিবার, বিশ্বস্ত বন্ধু, সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং কোটি ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চান না, বরং নিজের কাজ, একমাত্র সন্তান, পরিবার এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে মুক্ত আকাশের পরীর মতো ডান মেলে বাকি জীবন বাঁচতে চান।
পরীমনিকে কেন্দ্র করে বিচারাধীন ৩টি মামলার বর্তমান অবস্থা
২০২১ সালের সেই ঘটনার পর থেকে পরীমনির আইনি জীবন মূলত তিনটি বড় মামলার বেড়াজালে আটকে রয়েছে, যার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
| মামলার বিবরণ ও পক্ষ | মামলার মূল অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট | বর্তমান আইনি অবস্থা (২০২৬) |
| মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা (বাদী: র্যাব-১) | বনানীর বাসা থেকে বিদেশি মদ, আইস ও এলএসডি উদ্ধারের অভিযোগ। | ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। |
| ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা (বাদী: পরীমনি) | বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও ওমি কর্তৃক নির্যাতন। | ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। |
| মারধর ও হত্যাচেষ্টা নালিশি মামলা (বাদী: নাসির উদ্দিন) | বোট ক্লাবে গ্লাস ছুড়ে মারা ও মদ্যপ অবস্থায় ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ। | ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে। |
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে সংঘটিত ঘটনার পর পরীমনির করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২২ সালে পুলিশ ব্যবসায়ী আবাসন নেতা নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এর পাল্টা হিসেবে নাসির উদ্দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে একটি নালিশি মামলা করেন, যেখানে পরীমনির বিরুদ্ধে ফ্রিতে দামি অ্যালকোহল না পেয়ে বোট ক্লাবে ভাঙচুর ও গ্লাস ছুড়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলা পাল্টা-মামলার জটিলতার মাঝেই র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি পরীমনির বিরুদ্ধে হওয়া মাদক মামলার আইনি ভিত্তিকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
চার বছর আগে এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে নিজ বাসা থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ চার বছর পর প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত ও বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে সম্পূর্ণ বেআইনি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই সাজানো ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত ক্যারিয়ারে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে—তার দায় কে নেবে, তা নিয়ে তিনি রাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রশ্ন রেখেছেন। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ ও বেদনার কথা প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেওয়া ওই সাবেক সেনা কর্মকর্তার সৎ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসী অবশেষে সত্যটা জানতে পেরেছে। খাইরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সরাসরি মৌখিক নির্দেশে পরীমনিকে অন্যায়ভাবে আটক ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
‘মিথ্যা মামলায় ২৮ দিন কারাবাস, হারিয়েছি সম্মান ও মানসিক শান্তি’
নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে চরম বেদনাদায়ক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে পরীমনি তার স্ট্যাটাসে লেখেন:
“আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই সাজানো ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মাদক মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। সেই অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে, তা একমাত্র আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়।”
পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি আজও প্রতিটা মুহূর্তে সেই ঘটনার মানসিক ভুক্তভোগী (Traumatized) হয়ে আছেন। যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল করে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে, তার এত বছরের অর্জিত সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের আইনি ও বিনোদন ইতিহাসের পাতায় এক নজিরবিহীন বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রের উদ্দেশে পরীমনির তীক্ষ্ণ প্রশ্নাবলি
ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রতিশোধের মানসিকতা এড়িয়ে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে পরীমনি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:
- ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন: “আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই অমূল্য দিনগুলো, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক শান্তি কি রাষ্ট্র আর কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে?”
- মিথ্যা প্রচারণার দায়: “মিডিয়া ও প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও নোংরা বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছিল, রাষ্ট্র কি আজ তার আনুষ্ঠানিক দায় নেবে?”
- ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: “আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতে চাই না। আমি শুধু চাই, স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ শিল্পী বা সাধারণ মানুষ যেন এমন রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের শিকার না হন।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তার জীবনের এই কঠিনতম সময়ে যারা পাশে ছিলেন—সেই পরিবার, বিশ্বস্ত বন্ধু, সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং কোটি ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চান না, বরং নিজের কাজ, একমাত্র সন্তান, পরিবার এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে মুক্ত আকাশের পরীর মতো ডান মেলে বাকি জীবন বাঁচতে চান।
পরীমনিকে কেন্দ্র করে বিচারাধীন ৩টি মামলার বর্তমান অবস্থা
২০২১ সালের সেই ঘটনার পর থেকে পরীমনির আইনি জীবন মূলত তিনটি বড় মামলার বেড়াজালে আটকে রয়েছে, যার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
| মামলার বিবরণ ও পক্ষ | মামলার মূল অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট | বর্তমান আইনি অবস্থা (২০২৬) |
| মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা (বাদী: র্যাব-১) | বনানীর বাসা থেকে বিদেশি মদ, আইস ও এলএসডি উদ্ধারের অভিযোগ। | ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। |
| ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা (বাদী: পরীমনি) | বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও ওমি কর্তৃক নির্যাতন। | ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। |
| মারধর ও হত্যাচেষ্টা নালিশি মামলা (বাদী: নাসির উদ্দিন) | বোট ক্লাবে গ্লাস ছুড়ে মারা ও মদ্যপ অবস্থায় ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ। | ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে। |
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে সংঘটিত ঘটনার পর পরীমনির করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২২ সালে পুলিশ ব্যবসায়ী আবাসন নেতা নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এর পাল্টা হিসেবে নাসির উদ্দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে একটি নালিশি মামলা করেন, যেখানে পরীমনির বিরুদ্ধে ফ্রিতে দামি অ্যালকোহল না পেয়ে বোট ক্লাবে ভাঙচুর ও গ্লাস ছুড়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলা পাল্টা-মামলার জটিলতার মাঝেই র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি পরীমনির বিরুদ্ধে হওয়া মাদক মামলার আইনি ভিত্তিকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
চার বছর আগে এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে নিজ বাসা থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ চার বছর পর প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত ও বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে সম্পূর্ণ বেআইনি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই সাজানো ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত ক্যারিয়ারে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে—তার দায় কে নেবে, তা নিয়ে তিনি রাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রশ্ন রেখেছেন। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ ও বেদনার কথা প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেওয়া ওই সাবেক সেনা কর্মকর্তার সৎ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসী অবশেষে সত্যটা জানতে পেরেছে। খাইরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সরাসরি মৌখিক নির্দেশে পরীমনিকে অন্যায়ভাবে আটক ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
‘মিথ্যা মামলায় ২৮ দিন কারাবাস, হারিয়েছি সম্মান ও মানসিক শান্তি’
নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে চরম বেদনাদায়ক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে পরীমনি তার স্ট্যাটাসে লেখেন:
“আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই সাজানো ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মাদক মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। সেই অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে, তা একমাত্র আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়।”
পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি আজও প্রতিটা মুহূর্তে সেই ঘটনার মানসিক ভুক্তভোগী (Traumatized) হয়ে আছেন। যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল করে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে, তার এত বছরের অর্জিত সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের আইনি ও বিনোদন ইতিহাসের পাতায় এক নজিরবিহীন বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রের উদ্দেশে পরীমনির তীক্ষ্ণ প্রশ্নাবলি
ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রতিশোধের মানসিকতা এড়িয়ে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে পরীমনি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:
- ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন: “আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই অমূল্য দিনগুলো, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক শান্তি কি রাষ্ট্র আর কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে?”
- মিথ্যা প্রচারণার দায়: “মিডিয়া ও প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও নোংরা বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছিল, রাষ্ট্র কি আজ তার আনুষ্ঠানিক দায় নেবে?”
- ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: “আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতে চাই না। আমি শুধু চাই, স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ শিল্পী বা সাধারণ মানুষ যেন এমন রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের শিকার না হন।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তার জীবনের এই কঠিনতম সময়ে যারা পাশে ছিলেন—সেই পরিবার, বিশ্বস্ত বন্ধু, সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং কোটি ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চান না, বরং নিজের কাজ, একমাত্র সন্তান, পরিবার এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে মুক্ত আকাশের পরীর মতো ডান মেলে বাকি জীবন বাঁচতে চান।
পরীমনিকে কেন্দ্র করে বিচারাধীন ৩টি মামলার বর্তমান অবস্থা
২০২১ সালের সেই ঘটনার পর থেকে পরীমনির আইনি জীবন মূলত তিনটি বড় মামলার বেড়াজালে আটকে রয়েছে, যার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
| মামলার বিবরণ ও পক্ষ | মামলার মূল অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট | বর্তমান আইনি অবস্থা (২০২৬) |
| মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা (বাদী: র্যাব-১) | বনানীর বাসা থেকে বিদেশি মদ, আইস ও এলএসডি উদ্ধারের অভিযোগ। | ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। |
| ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা (বাদী: পরীমনি) | বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও ওমি কর্তৃক নির্যাতন। | ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। |
| মারধর ও হত্যাচেষ্টা নালিশি মামলা (বাদী: নাসির উদ্দিন) | বোট ক্লাবে গ্লাস ছুড়ে মারা ও মদ্যপ অবস্থায় ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ। | ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে। |
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে সংঘটিত ঘটনার পর পরীমনির করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২২ সালে পুলিশ ব্যবসায়ী আবাসন নেতা নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এর পাল্টা হিসেবে নাসির উদ্দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে একটি নালিশি মামলা করেন, যেখানে পরীমনির বিরুদ্ধে ফ্রিতে দামি অ্যালকোহল না পেয়ে বোট ক্লাবে ভাঙচুর ও গ্লাস ছুড়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলা পাল্টা-মামলার জটিলতার মাঝেই র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি পরীমনির বিরুদ্ধে হওয়া মাদক মামলার আইনি ভিত্তিকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।



















