জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের নামে কোনো ধরনের অবিচার করা হবে না, বরং প্রচলিত আইন মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই না বিচারের নামে আরেকটি অবিচার হোক। যারা অপরাধ করেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে আইন মেনে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।” জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই আবেগঘন সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা অংশ নেন।
১,৪০০ শহীদের আত্মত্যাগ ও স্বজনহারাদের মানসিক কষ্ট উপলব্ধি
বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী কেবল জুলাই আন্দোলনেই ৬৫ জন নিষ্পাপ শিশু শহীদ হয়েছে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি বলেন, “একজন মা তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা হতে দেখেছেন, কেউ দেখেছেন সন্তানকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, কেউ ভাইকে হারিয়েছেন। এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আপনাদের কষ্ট আমি মন থেকে অনুভব করতে পারি; শারীরিক যন্ত্রণা হোক কিংবা মানসিক কষ্ট, আমি অন্তত তা উপলব্ধি করতে পারি।” তিনি যোগ করেন, রাষ্ট্র যদি সব দাবি পূরণও করে, তবুও হারানো আপনজন বা চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এই অনন্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে যদি দেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করবে।
৫ আগস্টের অর্জন একক কোনো দলের নয়, এটি সবার
প্রতিশোধের রাজনীতি বর্জনের ডাক দিয়ে তারেক রহমান আবারও তাঁর মা ও ভাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গত ১৭ বছর তাঁর পরিবারের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন হয়েছে, সেটির প্রতিশোধ না নিয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জবাব। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ‘আমি’ না, আমাদের মূল লক্ষ্য ‘আমরা’। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ, দেশের মানুষ এবং দেশের মাটি।” ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক অর্জনকে কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে তিনি একে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী এবং শান্তিপ্রিয় সব মানুষের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন। কোনো ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভাজন না করে, একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


















