চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত. একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে. বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন.
মামলার পটভূমি ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
আদালতের নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে ঘটনার যে বিবরণ পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত নির্মম ও পৈশাচিক:
- নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ড: ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়.
- মরদেহ টুকরো করে সাগরে ভাসানো: তদন্তে উঠে আসে যে, তাদের প্রতিবেশী আবীর আলী শিশুটিকে প্রথমে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেয়.
- অভিযোগপত্র দাখিল: ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন, যেখানে আবীর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়.
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায় ঘোষণা
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেন:
| রায়ের বিবরণ ও প্রক্রিয়া | আদালতে উপস্থাপিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ |
| আদালতের পর্যবেক্ষণ | বিজ্ঞ আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টিকারী একটি অপরাধ. |
| সাক্ষ্যগ্রহণ | মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালত মোট ৩৩ জন সাক্ষীর সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন. |
| আসামির উপস্থিতি | রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়ে মামলার একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীর আলী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন. |



















