প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে. শনিবার (৬ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় সরকারের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিগত এক মাসের কাজের মূল্যায়ন, বিদ্যমান সমস্যা এবং তা সমাধানের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়. সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম.
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ
সভায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানাবিধ সমস্যা সমাধান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা ও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে:
- শিক্ষা খাত: শিক্ষামন্ত্রী সভায় জানান যে বর্তমান কারিকুলামের ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে তা দ্রুত আপডেট করা হচ্ছে. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রসঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে শিক্ষা কর্মমুখী নয় এবং যা মানুষকে কাজ শিখিয়ে বিদেশে গিয়ে কিছু করার যোগ্যতা তৈরি করতে পারে না, তা আসলে কোনো কাজে আসে না. তাই তিনি কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেন. এর পাশাপাশি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ফি আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে.
- স্বাস্থ্য খাত: দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং হাম প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে. এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের সার্বিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে সভায় জানানো হয়.
- সড়ক ও যোগাযোগ খাত: সড়ক পরিবহন ও সেতু मंत्रालय ইতিমধ্যে নতুন এক হাজার কিলোমিটার রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে. প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নমূলক কাজগুলো অত্যন্ত কম খরচে এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন.
ক্রীড়া, পানিসম্পদ, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক সংকটের ফিরিস্তি
চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজের বিবরণ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন:
- ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন: দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিকেএসপির শাখা সম্প্রসারণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. একই সাথে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের চলমান সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, যুবকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানানো হয়.
- পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাত: চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর টার্মিনালের আধুনিকায়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা ব্যারেজ ইস্যু নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের কাজের বিবরণ দিয়েছে. চিফ হুইপ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ যে দীর্ঘদিনের পানির শূন্যতায় ভুগছিল, তা থেকে দেশ এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে এবং পানির ব্যাপারে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই একটি ভালো অবস্থায় যাবে. অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বিপুল সংখ্যক নতুন মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং দামের ক্ষেত্রে কিছু যৌক্তিক সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে.
- অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্য: দেশের বর্তমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ডলার সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন চিফ হুইপ. তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে একলাফে ১১৯ বা ১২০ টাকা করে দিয়ে গিয়েছিল. এই প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবেই বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে. বর্তমান সরকার এই সংকটগুলো কাটিয়ে উঠে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে.


















