শনিবার , ৬ জুন ২০২৬ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানি রাডার স্থাপনায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা জবাব আইআরজিসির

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৬, ২০২৬ ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় ইরানের একাধিক রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র. মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযানকে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করেছে. গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, হরমুজ প্রণালী এলাকায় সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি এবং ইরানি সামরিক তৎপরতার মোক্ষম জবাব দিতেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে. এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাডার ও নজরদারি সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ দুর্বল করে দেওয়া, যাতে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও তাদের মিত্রবাহিনীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়. মার্কিন কর্মকর্তারা জোরালো দাবি করেছেন যে, এই হামলা কোনো বৃহৎ আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ নয়, বরং এটি ছিল সম্ভাব্য বড় হুমকি মোকাবিলায় একটি সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ মাত্র.

ইরানের পাল্টা জবাব ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

মার্কিন বিমান হামলার পর তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, ইরানের সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) এই রাডার স্থাপনায় হামলার তীব্র পাল্টা জবাব দিয়েছে. তারা ইতিমধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে. আইআরজিসি জানিয়েছে যে, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটিগুলোতে’ আঘাত হেনেছে এবং এই অভিযানগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘অ্যারোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করা হয়েছে. ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন ইরানের সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন সেনাবাহিনীর আগ্রাসী হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে. তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ঠিক কোন কোন স্থাপনা ধূলিসাৎ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি.

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ও সংঘাতের ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা এবার সম্পূর্ণ নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা পেয়েছে. সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতে একাধিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে. বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়. ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা এভাবে বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার সরাসরি মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে. আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে. বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করে কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে.

 সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ - অপরাধ