নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ. তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়োচিত ও কার্যকর হস্তক্ষেপই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান ভূমিকা রেখেছিল. যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম ঐতিহাসিক স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন. দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রোধে ট্রাম্পের এই অনবদ্য অবদানের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে.
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, বিশ্বের বুকে পাকিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছিল অন্যতম. পাকিস্তানের স্বাধীনতার সুচনালগ্নে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান পাকিস্তানের জাতির জনক মুহাম্মদ আলি জিন্নাহকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিলেন. তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী সহযোগিতায় বিভিন্ন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে, যার অন্যতম একটি বড় উদাহরণ হলো পাকিস্তানের বিখ্যাত ‘টার্বেলা ড্যাম’ নির্মাণ. বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় মুহূর্তে দুই দেশ সবসময় একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন.
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে জানান, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিক স্থায়ী ও সাময়িকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন. এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে পাকিস্তান আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারে নিজেদের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন. গত বছরের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়োচিত ও শক্তিশালী কূটনৈতিক মধ্যস্থতার কারণেই মূলত দক্ষিণ এশিয়া এক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে.



















