শুক্রবার , ৫ জুন ২০২৬ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বিরল সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৫, ২০২৬ ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দীর্ঘদিন পর বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে এক বিরল কূটনৈতিক সফরে আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং. চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ আজ শুক্রবার এই সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে. প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন. ২০১৯ সালের পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের এটিই প্রথম সফর এবং একই সাথে এটি চলতি বছরে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবেও গণ্য হচ্ছে.

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে চীন মূলত তার ঐতিহাসিক কিন্তু অত্যন্ত জটিল মিত্র উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় উষ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে. সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছিল. এর আগে গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় ২৫ বছর পর পিয়ংইয়ং সফর করেন এবং কিম জং উনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়. এই প্রেক্ষাপটে ১৯৬১ সালে স্বাক্ষরিত ‘চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে শি জিনপিংয়ের এই সফরকে বেইজিংয়ের একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে.

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে শি জিনপিংয়ের এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন তিনি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে পৃথকভাবে আতিথ্য দিয়েছেন. চলতি বছরে এ পর্যন্ত শি জিনপিং মোট ১৭ জন বিশ্বনেতাকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়েছেন এবং শিগগিরই লাওসের নেতার সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে. এই ব্যাপক কূটনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যে উত্তর কোরিয়া সফর ঘিরে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, শি জিনপিং হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার থমকে থাকা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা পুনরায় চালু করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাইছেন. উল্লেখ্য, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প আবারও সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন.

চীন দীর্ঘকাল ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সহায়তাকারী এবং প্রধান কূটনৈতিক মিত্র হিসেবে কাজ করে আসলেও, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করার বিষয়টি বেইজিংকে কিছুটা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে. উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নতুন অস্ত্র উপকরণ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনসহ পারমাণবিক শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও চীনের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এক ধরণের ঝুঁকি তৈরি করছে. চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং গত মাসে জানিয়েছিলেন যে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যেকোনো বিনিময় দুই দেশের স্বার্থ ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতার জন্য সর্বদা উপকারী. ফলে শি জিনপিংয়ের এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নই নয়, বরং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শক্তি রাজনীতির মধ্যে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনঃনির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে.

সর্বশেষ - অপরাধ