যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি মেনে চলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল. দখলদার দেশটির সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের পূর্বনির্ধারিত ও চলমান সামরিক অভিযান কোনো বিরতি ছাড়াই অব্যাহত থাকবে. সৌদি গেজেটের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন যে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে.
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই জানান, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ এখনো পুরোদমে চলছে এবং ইসরাইলি সেনারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নিবিড় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে. তিনি ওই অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর দক্ষিণে ভ্রমণ না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘যে দক্ষিণে যাবে, তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে’. অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ উল্লেখ করেছেন যে, বৈরুতের সঙ্গে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি ‘শর্তসাপেক্ষ’ এবং এটি মূলত দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের চূড়ান্ত অপসারণের ওপরই নির্ভর করছে.
চুক্তি থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের আকাশে এখনও ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, টাইর শহরের ওপর দিয়ে অত্যন্ত নিচু দিয়ে একটি ইসরাইলি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে এবং একই সময়ে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণও চালানো হয়েছে. লেবাননের বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে ইসরাইলি বাহিনীর একটি হামলায় ইতিমধ্যে তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন. একইভাবে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও টেল আল-আকারেবসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে.
এছাড়া হাদ্দাথা, টিবনিন, হারিস এবং হারিনসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে. সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও এখনই দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের ঘরবাড়িতে না ফেরার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে. তারা স্পষ্ট করেছে যে, ইসরাইলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া অবিস্ফোরিত বোমা ও চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক ঝুঁকির কারণে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে. এর আগে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্তভাবে ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননের কানতারায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর পাল্টা রকেট হামলা চালায় এবং বিউফোর্ট দুর্গের কাছে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে.



















