প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর লাল (রেড) টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট. আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন. গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে আট কেজি চোরাই তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে. সম্প্রতি সচিবালয়ে এই ভিআইপি টেলিফোন লাইনের তার চুরির ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি অজ্ঞাতপরিচয় মামলা দায়ের করে.
ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ এর ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে. জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রঞ্জন স্বীকার করেন যে, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি নিজেই এই তার চুরি করেছিলেন. পরবর্তীতে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙ্গারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার তিনি বিক্রি করে দেন.
রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়. পরে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে চকবাজার থানার হোসনি দালান রোডের একটি ভাঙ্গারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চুরি হওয়া সেই নির্দিষ্ট তামার তারগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ. প্রাথমিক তদন্ত শেষে সিটিটিসি ধারণা করছে যে, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি বড় সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে এবং এর মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে.



















