শনিবার , ৩০ মে ২০২৬ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ক্রেতা সংকটে রাস্তায় পড়ে আছে শত শত চামড়া, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ৩০, ২০২৬ ৪:০২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে ন্যায্যমূল্য ও চরম ক্রেতা সংকটের কারণে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা. বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে এবং সিন্ডিকেটের কারসাজিতে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে শত শত পশুর চামড়া শহরের সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে গেছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা. দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্পটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা.

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন কাচারি সড়ক সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কোরবানির বিভিন্ন পশুর চামড়া, কিন্তু সেখানে কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতার উপস্থিতি নেই. মূলত মৌসুমী ব্যবসায়ীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে নানা ধরণের পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন. সংগৃহীত এই চামড়াগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে ঈদুল আজহার দিন দুপুরের পর থেকেই তারা শহরের কাচারী মোড় ও টি. এ. রোডের অস্থায়ী চামড়ার হাটে নিয়ে আসতে থাকেন. তবে হাটে আনার পর সারারাত অপেক্ষা করেও তীব্র ক্রেতা সংকটের কারণে তারা চামড়া বিক্রি করতে পারেননি. মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ৫০০ টাকায় কেনা চামড়ার দাম আড়তদাররা ২০০ টাকাও বলতে চাননি. সরকারের যথাযথ নজরদারির অভাবে পুরো চামড়া ব্যবসাটি একটি অসাধু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে. ফলে চামড়া কিনে বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে কোনো উপায় না দেখে বাধ্য হয়েই তারা চামড়াগুলো সড়কের পাশে ফেলে চলে গেছেন. এদিকে, তীব্র গরমের মধ্যে কাঁচা চামড়া সড়কের পাশে এভাবে স্তূপ করে ফেলে রাখায় তা পচে চারপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যার ফলে সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে.

হাটে চামড়া নিয়ে আসা আলম নামের এক মৌসুমী ব্যবসায়ী তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, তিনি গতকাল থেকে চামড়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও কোনো ক্রেতা পাচ্ছেন না. যারা মূলত বড় ব্যবসায়ী, তারা এবার চামড়া কিনতে হাটে আসেননি এবং যারাও বা আসছেন, তারা চামড়ার দাম দুইশো টাকার বেশি দিতে রাজি হচ্ছেন না; যার ফলে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চামড়া ফেলে চলে যাচ্ছেন. রফিক নামের অপর এক বিক্রেতা সরাসরি সিন্ডিকেটের দৌরাত্মকে দায়ী করে বলেন, এ বছর বাজারে কোনো ক্রেতাই নেই এবং সিন্ডিকেটের কারণেই তাদের কপাল পুড়েছে. মো. ইমাম হোসেন নামের এক সাধারণ নাগরিক চামড়া শিল্পের এই দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে চামড়ার তৈরি জুতার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও কাঁচা চামড়ার দাম কমছে, যা স্পষ্টতই সিন্ডিকেটের কারসাজি. সরকার যদি এই বিষয়ে দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই সম্ভাবনাময় শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন.

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, সড়কে চামড়া ফেলে ব্যবসায়ীদের চলে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসন অবগত হয়েছে. যেহেতু এই পরিত্যক্ত চামড়াগুলোর কোনো দাবিদার বা মালিক নেই, তাই পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চামড়াগুলো সংগ্রহ করে আগ্রহী এতিমখানা বা মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়ার জন্য. তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সেজন্য বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি উদ্যোগে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহ করা হয়েছে. মৌসুমী ব্যবসায়ীদের লোকসান ও বিভিন্ন দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তাদের কিছু দাবি ছিল যা ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে, তবে সেগুলোর বাস্তবায়ন কিছুটা সময়সাপেক্ষ.

সর্বশেষ - অপরাধ