উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর সমরখন্দে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বোর্ড অব গভর্নরসের বার্ষিক সভার ফাঁকে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উজবেক রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান এবং ঢাকা-তাশখন্দ সরাসরি বিমান সংযোগ পুনরায় চালু করার পাশাপাশি বাংলাদেশে উজবেকিস্তানের একটি পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মিশন খোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং পাটজাত পণ্যের জন্য উজবেকিস্তানের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বস্ত্র ও ওষুধ খাতের অভাবনীয় অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং শিগগিরই একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এছাড়া কৃষি, পর্যটন এবং বাণিজ্য খাতে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। অর্থমন্ত্রী উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত কূটনীতি বর্তমানে যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে বৈঠক করছেন এবং জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন-ভারত সফর নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন মধ্য এশিয়ার শক্তিশালী দেশ উজবেকিস্তানের সঙ্গে এই নিবিড় যোগাযোগ বাংলাদেশের ‘লুক ওয়েস্ট’ ও ‘কানেক্টিভিটি’ নীতিরই প্রতিফলন। সমরখন্দের এই বৈঠক বাংলাদেশের জন্য মধ্য এশিয়ার বিশাল বাজারে প্রবেশের একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।



















