ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন, যাকে ইতিমধ্যে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পর কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন ঝানু রাজনীতিককে প্রতিবেশী দেশে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং একে ‘ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট’দের প্রতি একটি বিশেষ জবাবদিহিতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং ইউপিএ আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য থাকাকালীন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর মতো একজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় পাঠানোর পেছনে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে সাধারণত ভারতীয় ফরেন সার্ভিসের কর্মকর্তাদেরই দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘রিসেট’ বা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই রাজনৈতিক নিয়োগের পথে হাঁটছে ভারত।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ করার লক্ষে এই পদায়ন একটি বিশেষ সিগন্যাল। বিশ্লেষকদের মতে, দিনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগ নির্দেশ করে যে ভারত এখন প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘হ্যাভিওয়েট’ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দূত হিসেবে পাঠাতে চায়, যাতে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়। প্রণয় ভার্মা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন এবং ভারত সরকার ইতিমধ্যে ত্রিবেদীর নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সম্মতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



















