দক্ষিণ তুরস্কের কাহরামানমারাস এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত আটজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি জানিয়েছেন, আইসের চালিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই হামলায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ১৪ বছর বয়সী হামলাকারী কিশোরটিও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। তুরস্কে গত দুদিনে এটি দ্বিতীয় স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা।
তুর্কি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ওই কিশোর পাঁচটি বন্দুক এবং সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। স্থানীয় গভর্নর মুকেরেম উনলুয়ের দাবি করেছেন, ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো হামলাকারীর বাবার ছিল, যিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হামলাকারীর বাবাকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। হামলার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রথম তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ছে। ঘটনার সময় স্কুলের সামনে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া অভিভাবকরা স্কুলের সামনে ভিড় জমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পর পর দুই দিন স্কুলে এমন সহিংস ঘটনায় দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



















