রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রথাগত ভাষণের বাইরে গিয়ে তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন এবং তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কথা শোনেন।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বিষয় এবং মন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও মন্ত্রীর সরস হুঁশিয়ারি
অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) শিক্ষার অভাবের কথা জানালে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রসিকতার ছলে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সামনে পরীক্ষা; তাতে (ঠিকমতো পড়াশোনা না করলে) তুমিও ফেল, ছয় মাস পর (ফলাফল খারাপ হলে) আমিও ফেল, কারও বাঁচার উপায় নেই।” তাঁর এই বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় মন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে।
২. ল্যাব ও প্র্যাকটিক্যাল সমস্যার স্বরূপ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমান কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন:
- জরাজীর্ণ ভবন: ১৯৬৩ সালে নির্মিত পুরনো ভবনে বর্তমানে পাঠদান ও ল্যাব পরিচালনা করতে হচ্ছে।
- সরঞ্জামের অভাব: প্রয়োজনীয় ও আধুনিক মেশিনারিজ না থাকায় শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শিখতে পারছেন না।
৩. ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ও চাকরির বাজার
অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ বা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মন্ত্রী প্রিন্সিপালের কাছে জবাবদিহি চান।
- মন্ত্রীর নির্দেশ: সরকার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের মেশিন ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।
৪. শিক্ষক সংকট ও ৪৪% ঝরে পড়ার হার
অনুষ্ঠানে উঠে আসা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পলিটেকনিকে ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে (ড্রপ আউট)। এছাড়া ১৯ জন শিক্ষক দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বেতন না পাওয়ার অমানবিক অভিযোগ তোলেন।
- মন্ত্রীর আশ্বাস: বেতনহীন শিক্ষকদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের মাধ্যমে দ্রুত বেতন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
৫. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করতেই তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের মতামত নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















