সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়েছে। গতকাল রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন যে, এখন থেকে সচিব কমিটি এই প্রস্তাবিত কাঠামোটি বিস্তারিত পর্যালোচনার কাজ পরিচালনা করবে।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবিত পে স্কেলের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সচিব কমিটির ভূমিকা ও প্রক্রিয়া
উপদেষ্টা জানান, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
- বিশ্লেষণ: সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো সচিব কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবে।
- সুপারিশমালা: এই কমিটি তাদের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত সুপারিশমালা সরকারের কাছে জমা দেবে, যার ওপর ভিত্তি করেই বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
২. বেতন কমিশনের প্রধান সুপারিশসমূহ
গত ২২ জানুয়ারি জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে:
- সর্বনিম্ন বেতন: বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
- সর্বোচ্চ বেতন: বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
৩. আর্থিক সংশ্লেষ ও বাজেট চ্যালেঞ্জ
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। দেশের বর্তমান নিম্নমুখী অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে এই বিশাল অংকের জোগান দেওয়া সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
৪. কমিটির পুনর্গঠন ও পটভূমি
গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কার্যক্রম কিছুটা ধীর হলেও, এখন থেকে সচিব কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাজ শুরু করার সবুজ সংকেত পেয়েছে।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং অর্থসচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















