জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল, ২০২৬) কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই রিপোর্ট জমা দেন। প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত অধ্যাদেশটি কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও সন্ত্রাস বিরোধী অধ্যাদেশ
‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পর্যালোচনার পর বিশেষ কমিটি এটি পাসের সুপারিশ করেছে।
- মূল বিষয়: ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার যে ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল, তা বজায় থাকছে।
- সংশোধনী: মূল অধ্যাদেশে দলটির নাম উল্লেখ করে যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিমার্জন আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ আরও প্রশস্ত হলো।
২. গুম বিরোধী কঠোর আইন আপাতত স্থগিত
গুম প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারিকৃত অধ্যাদেশটি এই অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না।
- সিদ্ধান্ত: বিশেষ কমিটি গুম বিরোধী আইনসহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত (Shelved) রাখার এবং পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করার সুপারিশ করেছে।
- কারণ: মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি। ফলে গুমের বিচার প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
৩. বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও বাতিলকৃত অধ্যাদেশ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত ৪টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে কমিটি।
- এর ফলে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার উদ্যোগগুলো বাধার মুখে পড়ল।
- ভিন্নমত: জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
৪. পরবর্তী পদক্ষেপ ও সংসদীয় সময়সীমা
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
- বাধ্যবাধকতা: সংবিধান অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
- ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রেখে পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অনেক মৌলিক সংস্কার এখন সংসদীয় বিতর্কের মুখে পড়ল। বিশেষ করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে সংসদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।



















