বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রবর্তিত ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে দেশে কোনো ধরনের মূল্যস্ফীতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- মূল্যস্ফীতি হবে না: প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কার্ডের আওতায় সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ছে না। বরং বাজেটের বরাদ্দ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে, তাই মুদ্রাস্ফীতি বা দাম বাড়ার কোনো ঝুঁকি নেই।
- টাকা পাচার রোধ: এই সহায়তার অর্থ প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও নারীরা স্থানীয় বাজারে ব্যয় করবেন। তাঁরা এই টাকা বিদেশে পাচার করবেন না, ফলে দেশের টাকা দেশের ভেতরেই ঘুরবে।
- স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান: উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন নারী এই টাকা দিয়ে স্থানীয় দোকান থেকে পণ্য কিনলে সেই দোকানদারের আয় বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করবে। দেশের ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় পণ্য ব্যবহার করায় এই উদ্যোগ দেশীয় শিল্পকেও শক্তিশালী করবে।
- পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন: একবারে সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে অধিক সংখ্যক পুরুষকে ‘কৃষক কার্ড’ এবং নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।
- দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এই অর্থ প্রবাহ স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের গতিশীলতা বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও সচল করবে।



















