কুমিল্লার পদুয়ার বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (২২ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে এই ধরনের দুর্ঘটনাকে তিনি ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:
- তদন্ত ও জবাবদিহিতা: প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো প্রকার শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। দায়িত্বরতদের অবহেলা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
- তদন্ত কমিটি গঠন: কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার (৩ কার্যদিবস) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- প্রাথমিক ব্যবস্থা: দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রাথমিক অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- আর্থিক সহায়তা: নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী লেভেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, রেল সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেন। তিনি ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি পুনরুল্লেখ করেন।



















