মাঠ পর্যায়ের চিত্র ও ইসির তথ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩৬৯টি বিশৃঙ্খলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের ১৩টি স্থানে সরাসরি ভোট প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের অন্তত ৯২টি ঘটনা ঘটেছে। কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর খবরও ইসির মনিটরিং সেলে জমা হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা এখনো ঘটেনি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ভোটের হার ও কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ দুপুর পর্যন্ত সারাদেশে ভোট পড়ার হার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও কিছু গ্রামীণ এলাকায় উত্তেজনার কারণে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ৪৩ হাজার কেন্দ্রের ডিজিটাল মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে এবং ড্রোন ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠানো হচ্ছে।
সংঘর্ষ ও বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা রিপোর্ট অনুযায়ী, নরসিংদী, লক্ষ্মীপুর এবং পাবনার কিছু কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মৃদু উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১৭ আসনের কিছু কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের অসহযোগিতার অভিযোগ থাকলেও সামগ্রিক ভোটদান প্রক্রিয়া সচল রয়েছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং গণভোটের ব্যালট পেপার আলাদা হওয়ায় গণনা প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেজন্য দুপুর থেকে সেনাটহল আরও জোরদার করা হয়েছে।



















