ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যাদি জানাতে আজ রবিবার একটি বিশেষ সমন্বিত সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভার পাশাপাশি অথবা পৃথকভাবে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্তে নিয়োজিত সকল সংস্থা মিলে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের একটি সার্বিক চিত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে রয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম এবং স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া। এছাড়া ফয়সালের শ্যালক, বান্ধবী এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ফয়সালকে পালাতে সহায়তাকারী এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে জড়িত ব্যক্তিদের। এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে দুই গাড়িচালককে সাক্ষী করা হয়েছে এবং জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও।
আইনি প্রক্রিয়ায় এই মামলাটি এখন একটি বড় মোড় নিয়েছে। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর যখন মামলাটি পল্টন থানায় দায়ের করা হয়েছিল, তখন এটি ছিল ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর পর আদালত শনিবার মামলাটিকে ‘হত্যা মামলায়’ রূপান্তরের নির্দেশ দেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পুরানা পল্টনে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদির মাথায় মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। দেশে কয়েকদিন চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলে তাকে দাফন করা হয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















