১১ জন আহত, থাইল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি ও পান্না ত্রিভুজ নিয়ে ১১৮ বছরের পুরোনো বিরোধে উত্তেজনা তুঙ্গে
চার মাসের স্থিতাবস্থা ভেঙে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে আবারও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাতে এ পর্যন্ত দুই দেশের অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে থাইল্যান্ডের একজন এবং কম্বোডিয়ার ছয়জন সেনাসদস্য রয়েছেন।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকায় থাই বাহিনীর ছোড়া গোলায় দুই বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে তাদের দেশের মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড নিশ্চিত করেছে, তাদের একজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের নিন্দা:
বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। তিনি বলেন, “সার্বভৌমত্ব রক্ষার নাটক সাজিয়ে থাইল্যান্ড বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা চালাচ্ছে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
থাইল্যান্ডের অভিযোগ ও সামরিক প্রস্তুতি:
অন্যদিকে, থাই নৌবাহিনী মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ত্রাত প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় কম্বোডিয়ার সেনা উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে কম্বোডীয় বাহিনী পিছু হটে। থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে, কম্বোডিয়ার সেনারা স্থল ও জলসীমায় ভারী অস্ত্র, স্নাইপার মোতায়েন করছে এবং সীমান্তজুড়ে পরিখা খনন করে অবস্থান শক্ত করছে। থাই নৌবাহিনী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর “সরাসরি ও গুরুতর হুমকি” হিসেবে দেখছে।
বিবাদের সূত্রপাত ও সাম্প্রতিক সহিংসতা:
‘পান্না ত্রিভুজ’ বা এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল নামে পরিচিত একটি ভূখণ্ডকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ১১৮ বছর ধরে বিরোধ চলছে। প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনার জন্য পরিচিত এই অঞ্চলকে উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯০৭ সালে ফ্রান্স (তৎকালীন কম্বোডিয়া শাসক) ওই ভূখণ্ডকে কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে দেখালে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
দীর্ঘ সংঘাতের পর প্রায় ১৫ বছর আগে যুদ্ধবিরতি হলেও গত বছর মে মাস থেকে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। গত জুলাইয়ে টানা পাঁচ দিনের সংঘাতে ৪৮ জন নিহত হন এবং তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় পরে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।
গত রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর থাইল্যান্ডের সি সা কেত প্রদেশে ফের গোলাগুলি শুরু হয়। এর আগে জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে ল্যান্ডমাইন পেতে রাখার অভিযোগ তোলে থাইল্যান্ড। অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরই কম্বোডিয়ার সেনারা গুলি ছোড়ে, যার পাল্টা জবাব হিসেবে কম্বোডিয়ার অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায় থাই বাহিনী। দুই দেশের সীমান্তে এখনো তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।


















