দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পগুলো হলো—ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ।
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।
বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। এরপর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ধরনের সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা করেন কর্মকর্তারা। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈঠকে অংশ নেন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


















