বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, নিহত ৩২

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২:৪১ অপরাহ্ণ

Spread the love

ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে শিশুসহ অন্তত ৩২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্প স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাশিয়ার হামলাকে ইউক্রেনের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে চালানো হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহরটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে শহরটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে পৌঁছেছে। কিয়েভের একটি উপশহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও দুজন নিহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় দেশজুড়ে অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েভের পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলীয় শহর ওলেকসান্দ্রিয়া ও ক্রেমেনচুকেও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

রাতের ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘এটিই সেই জন্মদিনের উপহার, যা পুতিন নিজেকে দিয়েছেন: শিশুদের হত্যা, সাধারণ মানুষকে হত্যা।’

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনে হামলা চালানোর বিষয়টি উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে।

প্রিলুকিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

প্রিলুকিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধসে পড়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি বিভাগের কর্মীরা। খননযন্ত্র ও বেলচা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি মই ব্যবহার করে ভবনটির ওপরের তলাগুলোতেও পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা।

ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রিলুকির ডেপুটি মেয়র দানিলো সাভেঙ্কো জানান, শহরটির বিশেষ করে কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শব্দ শোনার পর তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

৭০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের দাবি

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে অনেকগুলো উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। পাশাপাশি ডজন ডজন ‘শহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। মস্কোর দাবি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য উচ্চনির্ভুল অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও ছিল। এসব স্থাপনায় ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন পাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয় বলে মস্কো জানিয়েছে।

ড্রোন প্রতিহতের দাবি ইউক্রেনের

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার নিক্ষেপ করা ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের বেশি ভূপাতিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ড্রোন ধ্বংস করতে পেরেছিল, এবার সাফল্যের হার তার চেয়ে বেশি হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

তবে ড্রোন প্রতিহতের হার বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ইউক্রেনের বিমান বাহিনী।

হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও জরুরি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ