জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন অধিকারকর্মী, রাজনীতিক ও বিনোদনজগতের ব্যক্তিরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারের এ বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারানডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্নাহ আইনবিন্ডার, ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে ছিলেন।
বিক্ষোভটি আয়োজন করে ইহুদি অধিকারকর্মীদের সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী সাদা টি-শার্ট পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হন। তাঁদের টি-শার্টে ‘ফান্ড পিপল নট বম্বস’, ‘নো ওয়ার’ ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাস্তায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দিলে পুলিশ মাইকিং করে তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়। অনেকে ফুটপাতে চলে গেলেও একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় বসে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। পরে সাইকেলে করে পুলিশ সদস্যরা এসে তাদের ঘিরে ফেলেন এবং একে একে গ্রেপ্তার করে বাসে তোলেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মানিজে মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যা ঘটছে, তা নিয়ে কথা বলা তাঁদের নাগরিক দায়িত্ব। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন করের অর্থে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এবং জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।
এদিকে নেতানিয়াহু সাধারণ পরিষদে ভাষণ শুরু করলে বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে একাধিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে গাজা পরিস্থিতি, ইসরায়েল সরকারের নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
সূত্র: রয়টার্স


















