সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন করে দুই ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। মঞ্জু সরদার ও সোবহান গাজী নামের ওই দুই ব্যক্তির ন্যাম ভবনের বাসায় যাতায়াত এবং ঘটনার আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার ঢাকার একটি আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মরিয়মের মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
দুই ব্যক্তিকে ঘিরে তদন্ত
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মঞ্জু সরদার ও সোবহান গাজী গাজী নজরুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ন্যাম ভবনের ওই বাসায় তাঁদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ঘটনার দুই দিন আগে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই দুই ব্যক্তির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না—এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁদের অবস্থান এবং ঘটনার আগে ও পরে তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ
মরিয়মের বাবার করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্যাতনের কথা মরিয়ম পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুলকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই ঘটনার পর পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বাবার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক নির্যাতনের কারণে মরিয়ম মানসিকভাবে চাপে ছিলেন।
মরিয়মের মরদেহের ময়নাতদন্তের পর সোমবার রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শ্যামনগরে বিক্ষোভ
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর নিজ এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগরেও বিক্ষোভ হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুতুল দাহ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, আদালত আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আদালত আগামী ২২ অক্টোবর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও অপরাধমূলক দায় রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে।


















