ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এবং মাটির গভীরে নির্মিত অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে শিগগিরই হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা খুব শিগগিরই হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট সময় বা কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন। নাতাঞ্জে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ওই স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাহাড়টির গভীরে অত্যন্ত সুরক্ষিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। মাটির অনেক নিচে নির্মিত হওয়ায় এসব স্থাপনাকে প্রচলিত বিমান হামলার জন্য কঠিন লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর প্রকৃত ব্যবহার, সেখানে কী ধরনের অবকাঠামো রয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে এর সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক কতটা—এসব বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।
ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নাতাঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা হলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তবে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। ফলে ট্রাম্পের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং তা ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


















