নেপালে হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ বাড়িঘর পুরোপুরি ধসে গেছে কিংবা কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক বাড়ি কাঠামোগতভাবে অক্ষত থাকলেও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তার মতে, চীন সীমান্তসংলগ্ন বেশ কয়েকটি জনপদ পলি ও কাদার স্তরের নিচে চাপা পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ করছে। বিশেষ করে ‘আপার ত্রিশূলী-১’ প্রকল্প এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর, শাব্দিক তরঙ্গ শনাক্তকারী সরঞ্জাম ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান চালাচ্ছে। সেখানে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্য শ্রমিকদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে।
দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ ভবনে পাঠদান পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সমন্বিত আন্তর্জাতিক মানের একটি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স


















