দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে আইপিইউ সেক্রেটারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তারা আনন্দিত। গণতন্ত্রের আন্দোলনে দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন এবং সেখানে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্দা ফিলিপ জানান, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তারা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।


















