পরিকল্পনার গভীর ঘাটতি এবং সময়মতো জ্বালানি আমদানির কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই দেশে বর্তমানে স্মরণকালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম এই সংকটকে পুঁজি করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে নির্দিষ্ট কয়েকটি অলিগার্ক ও বেসরকারি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি ‘লুটপাট নয়, উৎপাদন; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা’র বার্তা দিলেও সরকারে আসার মাত্র ছয় মাসের মাথায় তারা পতিত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মতোই কুইক রেন্টাল, আইপিপি ও দায়মুক্তি আইনের আড়ালে বাজার লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ থাকা সত্ত্বেও আমদানির সঠিক সময়সূচি ও কেনাকাটার ক্যালেন্ডার না থাকায় এই মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। একটি বিশেষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত তেল আমদানির সুবিধা দিতে বিপিসির নীতিমালার খসড়া মাত্র চার দিনে জমা দিতে বাধ্য করা এবং এতে দ্বিমত পোষণ করায় বিপিসি চেয়ারম্যানকে তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ৩,৭০০ মেগাওয়াটের বেশি রেকর্ড লোডশেডিং এবং গ্রামাঞ্চলে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীনতার জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি অবিলম্বে বেসরকারিকরণ স্থগিত, দায়মুক্তি আইন বাতিল, আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ১০ দিন থেকে ৪২ দিনে উন্নীতকরণ, ক্যাপাসিটি চার্জের পূর্ণাঙ্গ অডিট এবং সৌরবিদ্যুতের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনাসহ মোট ১৫ দফা জরুরি প্রস্তাবনা সরকারের কাছে তুলে ধরেন।


















