যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিনিময় দর্শনার্থী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার নিয়মে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা পড়াশোনা ও কাজের মেয়াদ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের প্রচলিত ব্যবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর (ডিএইচএস) কর্তৃক প্রকাশিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সাধারণত সর্বোচ্চ চার বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। এই সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের ভিসার মেয়াদ নবায়নের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে অথবা দেশ ত্যাগ করে পুনরায় প্রবেশের আবেদন করতে হবে।
অন্যদিকে, নতুন নীতিমালায় বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতিবার প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এই বিধিটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর এবং কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর, বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির ধারাবাহিকতায় এটি তাদের সর্বশেষ ও অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ।
ডিএইচএস দাবি করেছে, অতীতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ভিসাধারীদের অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ দেওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এটি করদাতাদের অর্থে বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে। দফতরটি জানায়, তারা এমন অনেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে যারা ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ করে এ বছরের (২০২৬) এপ্রিলেও বিভিন্ন কোর্সে যুক্ত থাকার নাম করে দেশটিতে অবস্থান করছেন। ডিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখের বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখের বেশি বিনিময় দর্শনার্থী এবং প্রায় ৩৭,৩০০ জন বিদেশি সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক এই অভিবাসীদের ওপর তদারকি করা ডিপিএসের সক্ষমতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।


















